শুক্রবার

৪ এপ্রিল, ২০২৫
২১ চৈত্র, ১৪৩১
৭ শাওয়াল, ১৪৪৬

এক কিলোমিটার জুড়ে কাটা হয়েছে ফায়ার লাইন: নেভেনি আগুন 

বাগেরহাট প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২ মার্চ, ২০২৫ ২২:১৩

শেয়ার

এক কিলোমিটার জুড়ে কাটা হয়েছে ফায়ার লাইন: নেভেনি আগুন 
ছবি: কোলাজ

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজী টহল ফাঁড়ি-সংলগ্ন বনে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২২ মার্চ) রাত ৯ টা পর্যন্ত আগুন নেভানো যায়নি। এখনও বনের মধ্যে ধোয়া উড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে এদিন সকাল ৯টার দিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের কলমতেজী টহল ফাঁড়ি-সংলগ্ন বনে ট্যাপার বিল ধোঁয়া দেখতে পায় পার্শবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। পরে দুপুরের দিকে বন বিভাগ আগুনের বিষয়টি নিশ্চিত করে।  পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে বন বিভাগ আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। বিকেলের দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের ৪ টি ইউনিট।

ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ ও স্থানীয়রা সুন্দরবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে বনের মধ্যে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা ধরে ফায়ার লাইন (শুকনো পাতা, মাটি সরিয়ে নালা) করা হয়েছে। তবে কাছাকাছি পানির উৎস্য না থাকায় শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই এলাকায় পানি দেওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের শরণখোলা স্টেশনের কর্মকর্তা আফতাদ-ই-আলম বাংলা এডিশনকে বলেন, দেড় কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ফায়ার লাইন কাটা হয়েছে। আগুন আশা করা যায় আর ছাড়াবে না। কোথাও ধোঁয়া আছে, কোথাও এখনও একটু একটু করে জ্বলছে। আলো না থাকায় রাতে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। আর্ধেকটা পথ পর্যন্ত পাইপ টেনে নেওয়া গেছে। তবে পানি দেওয়া যায়নি। পাইপ টেনে সকাল থেকে পানি দেওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বনাঞ্চলে ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখার পর বন বিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। বন বিভাগের সাথে সেচ্ছ্বাসেবকসহ শত শত স্থানীয় বাসিন্দা আগুন নিয়ন্ত্রণে বনের মাঝে ফায়ার লাইন কাটার কাজ করেছে। 

ঘটনাস্থল থেকে ঘুরে আসা শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা এলাকার বাসিন্দা শেখ নাজমুল ইসলাম বলেন, এবার যেখানে আগুন লেগেছে তা বনের বেশ ভেতরে। দীর্ঘক্ষন হেটে ঘটনাস্থলে যেতে হবে। গাছপালার মধ্যে হাটা যায় না। 

রাজাপুর এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য পান্না মিয়া বলেন, শত শত মানুষ আগুন নিয়ন্ত্রণে বন বিভাগরে সাথে কাজ শুরু করে। আমিও সেখানে গেছি। বেশ দূর্গম পথ। আশপাশে কোন নদী খাল নেই। তাই পানি নিতে দেরি হচ্ছে। আগুন যেন না ছাড়ায় সে জন্য সরু পথ (ফায়ার লাইন) কাটা হয়েছে এক থেকে দেড় কিলোমিটার এলাকা ধরে। 

স্থানীয়রা বলছে, আগুন লাগা ওই এলাকাটিতে তেমন বড় গাছ নেই। অধিকাংশই বলা বা বলই যাতীয় গাছ। এই গাছের শুকনো পাথার পুর আস্তারন রয়েছে মাটির উপরে। ওই শুকনো পাতার কারনে আগুন থেকে থেকে ছড়াচ্ছে।

আগুন যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, এ জন্য স্থানীয় লোকজন নিয়ে বন বিভাগ কিছুটা পাতার স্তূপ সরালেও গভীর ফায়ার লাইন কাটতে পারেনি। তাই রাতে বাতাস হলে দীর্ঘ বছর ধরে জমা পাতার স্তুপের নিচ দিয়েও আগুন ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে বলছে স্থানীয়রা। 

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করিম বলেন, আত্মঙ্কগ্রস্থ হওয়ার কারণ নেই। আগুন ততটা বেশি না, বেশি হলো ধোঁয়া। আগুন যেন আর না ছড়ায় এজন্য চারপাশ থেকে পাতা সরিয়ে সরু নালা করা হয়েছে। পাইপ এখনও ওই এলাকা পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। আশাকরি সকালে আরও গতি নিয়ে কাজ করা যাবে।

 

banner close
banner close