
মানিকগঞ্জের হরিরামপুরর ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে ১৩ লক্ষ টাকা নিয়ে ফেরত না দেয়ায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. সেলিম মোল্লা ও অভিভাবক প্রতিনিধি চালা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আব্দুল মজিদকে নোটিশ প্রদান করেছে বিদ্যালয়ের বর্তমান এডহক কমিটি। এছাড়াও নোটিশ প্রদান করা হয় বিদ্যালয়ের তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সদস্য সচিব অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব উদ্দিনকেও।
গত ২০ মার্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি এড. হুমায়ন কবির ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নোটিশ তাদেরকে ফেরত দেয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
প্রদানকৃত নোটিশ ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ঝিটকা আনন মোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের খাল ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করে আড়াশো দোকানের পজিশন দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতি পজিশন থেকে এক লাখ ২০ হাজার করে নেয় তৎকালিন ম্যানেজিং কমিটি। সে সময় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. সেলিম মোল্লা। আর বিদ্যালয়ের নবনির্মিত মার্কেটের দোকান বরাদ্দ দেয়ার উপকমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বিদ্যালয়ের অভিভাবক প্রতিনিধি, চাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আব্দুল মজিদ। ওই সময় বিদ্যালয়ের তহবিল থেকে মো. সেলিম মোল্লা ৩ লক্ষ লোন হিসেবে নেন এবং নবনির্মিত মার্কেটের দোকান বরাদ্দ দেয়ার উপকমিটির আহ্বায়ক কাজী আব্দুল মজিদের নিকট বিদ্যালয়ের তহবিলের বয়েকা রয়েছে ১০ লক্ষ টাকা। কিন্তু দীর্ঘ আট বছর অতিবাহিত হলেও তহবিলের মোট ১৩ লক্ষ টাকা অদ্যবধি পর্যন্ত ফেরত দেননি তারা।
চলতি বছরের ৩ মার্চ বিদ্যালয়টির নতুন এডহক কমিটির দায়িত্ব পান বিদ্যালয়ের প্রাক্তণ শিক্ষার্থী এড. হুমায়ন কবির। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরে বিদ্যালয়ের অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির খতিয়ান টানতেই বেরিয়ে আসে আট বছর আগের ১৩ লক্ষ টাকার গরমিল। এতে করে বিগত দিনের ১৩ লক্ষ টাকা ফেরত চেয়ে তাদের নোটিশ প্রদান করেন বর্তমান এডহক কমিটি সভাপতি। এছাড়াও অনেকে দোকান বরাদ্দের জন্য টাকা দিয়েও দোকান পাননি এমন অভিযোগও অনেকে করছেন বলে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
এ বিষয়ে তৎকালীন সময়ের বিদ্যালয়ের ম্যানিজিং কমিটির সদস্য সচিব অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব উদ্দিন জানান, আমি অবসরে আসার সময় বর্তমান প্রধান শিক্ষককে সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। আর লোনের টাকার বিষয়ে মো. সেলিম মোল্লা ও কাজী আব্দুল মজিদকে আমি একাধিকবার তাগাদা দিয়েছি। কিন্তু সে সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। তখন তো তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার দুঃসাহস ছিল না। তাই এ ব্যাপারে আমারও কিছু করার ছিল না। তখন তো সবকিছু তাদের কথা মতো করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম মোল্লা পলাতক থাকায় এবং তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির তৎকালীন সাবেক অভিভাবক প্রতিনিধি ও নবনির্মিত মার্কেটের দোকান বরাদ্দ দেয়ার উপকমিটির আহ্বায়ক কাজী আব্দুল মজিদ জানান, আমি এখনো কোনো নোটিশ পাইনি। আমার পরে অনেক কমিটি গেছে। অনেকেই কমিটির সভাপতি ছিলেন। এতো দিন এ সব নিয়ে কথা উঠেনি। এখন টাকার হিসেব উঠছে। তাতে সমস্যা নেই।টাকা পয়সার বিষয়ে আগের প্রধান শিক্ষকের অজানা একটা টাকাও খরচ হয়নি। সবই তার মাধ্যমে হয়েছে। আর কমিটিতে তো আমি একা ছিলাম না। আরও অনেকে ছিল। সবাইকে ডেকে এক জায়গায় বসুক, তারপর দেখা যাবে টাকা কে নিয়েছে। টাকা যদি নেয়া হয়, তাহলে আমি একা কেন? ওই সময় কমিটিতে যারা ছিল, সবাইকেই দিতে হবে। এখন এমন একটা পরিস্থিতি হয়েছে, কিছু হলেই শুধু আমাকে ফোন দেয়। কমিটিতে আরও সদস্য ছিল। তাদেরও আনা হোক। তাহলেই সব পরিস্কার হয়ে যাবে।
বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি এড. হুমায়ন কবির বাংলা এডিশন কে জানান, ঝিটকা আনন্দ মোহন উচ্চ বিদ্যালয় একটা ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ। বিগত সময়ের ম্যানেজিং কমিটি বিদ্যালয়টিকে একটা হরিলুটের কারখানা তৈরি করেছিল। আমরা প্রাক্তণ ছাত্র পরিষদ থেকে বার বার বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবাদ করেও কোনো সুরাহা পাইনি। গত ৩ মার্চ আমি এডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাই। এরপরেই খাতাপত্র ঘাটতেই আগের কমিটির সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম মোল্লার নামে ৩ লাখ টাকা লোন ও অভিভাবক প্রতিনিধি, মার্কেট নির্মাণ প্রকল্প কমিটির আহ্বায়ক কাজী আব্দুল মজিদের নিকট ১০ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। যা বিদ্যালয়ের তহবিলে এখনও জমা দেয়নি। তাই তাদের টাকা ফেরত দিতে নোটিশ প্রদান করি। নোটিশে নোটিশ প্রাপ্তির সাত কর্ম দিবসের মধ্যে টাকা ফেরত দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও অনেকে দোকান বরাদ্দের টাকা জমা দিয়েও বরাদ্দ পায়নি। আমাদের কাছে এমন অনেক অভিযোগও আসতেছে। আমরা সেসব বিষয় নিয়েও পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করব।
আরও পড়ুন: