
চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে একের পর এক ঘটছে দূর্ঘটনা। গত তিন দিনে এ মহাসড়কে তিনটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নারী পুরুষ শিশুসহ ১৫ জন নিহত ও অন্তত অর্ধশত লোক গুরতর আহত হয়েছেন। সর্বশেষ বুধবার (২ এপ্রিল) চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নারী-শিশুসহ ঘটনাস্থলে ৭ জন নিহত হয়েছেন। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো তিন জন নিহত হয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ জনে। আরো অনেকের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বুধবার সকাল ৭টার দিকে চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
লোহাগাড়া ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন নারী ও ৭ বছরের একটি মেয়েশিশু রয়েছে। এই দুর্ঘটনায় আরো বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে হতাহতদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী রিলাক্স পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকার একটি বাঁকে আসতেই চালক ‘হার্ড ব্রেকথ করা মাত্রই বাসটির সামনের অংশ ঘুরে যায়। এতে বাসটি মহাসড়কের আড়াআড়ি হয়ে পড়ে। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা কক্সবাজারগামী যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের সঙ্গে বাসটির মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। সেই মুহূর্তেই কক্সবাজার অভিমুখী আরেকটি মাইক্রোবাস দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিলেই ত্রিমুখী সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এদিকে, মহাসড়কের লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় গত সোম ও মঙ্গলবার আরো পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। সোমবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে যাত্রীবাহী বাস ও মিনিবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচ তরুণ নিহত হন। আহত হন ১২ জন।
অন্যদিকে, মঙ্গলবার ভোররাত ৪টার দিকে পর্যটকবাহী দুটি মাইক্রোবাস উল্টে ৯ আরোহী আহত হন।
এর আগে, গত ১৩ মার্চ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দোহাজারী এলাকায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় সহোদর ভাই বোন সহ তিন জন নিহতের ঘটনা ঘটে। বান্দরবান থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী পূরবী পরিবহনের একটি বাস চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দোহাজারী এলাকায় একটি অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্হানীয়রা বলছেন, মহাসড়কের অপরিকল্পিত বিপজ্জনক বাঁকের কারণে প্রতিনিয়ত এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জেলা পুলিশের সাতকানিয়া সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার তৌফিকুল আলম বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বেশ কয়েকটি বিপজ্জনক বাঁক আছে। এরমধ্যে লোহাগড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায়ও একটি বড় বাঁক রয়েছে। গাড়ি ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে গাড়ি আসছে কিনা দেখা যায় না। এ কারণে মূলত দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বরত নির্বাহী প্রকৌশলী রোকন উদ্দিন খালেদ চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কে লবণ পানির কারণে সড়ক পিচ্ছিল থাকে। এছাড়াও সকালে কুয়াশার কারণেও ভেজা থাকে গুরত্বপূর্ণ এ মহাসড়কটি। এসব কিছুকে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও যানবাহনের তুলনায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি সরু। এ কারণেও বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে।চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কটি প্রশস্ত করার একটি প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মধ্যে আছে। সড়ক প্রশস্ত করা গেলে দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করছেন এ নির্বাহী প্রকৌশলী।
দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশের ওসি শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগড়া উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকার যে স্থানে বারবার দুর্ঘটনা ঘটেছে সেটি অত্যন্ত ঢালু। ভোরে সড়কে যানবাহন কম থাকে। ওই সময় ফ্রি সড়কে যানবাহনের গতি থাকে বেশি। এ সড়কে যে চালকেরা নতুন তাদের এ সড়ক সম্পর্কে ধারণা থাকে না। যে কারণে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে দুর্ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কের যেসব পয়েন্টে ঢালু অবস্থায় রয়েছে তা সংস্কার প্রয়োজন। এত দুর্ঘটনার পরও সড়ক ও জনপদ বিভাগের এ বিষয়ে কোনও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দ্রুত কার্যকরী প্রদক্ষেপ না নিলে এ রকম আরো ভয়াবহ দূর্ঘটনা ঘটনা ঘটবে।
আরও পড়ুন: