
চট্টগ্রামে জোড়া খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা পুলিশকে জানান, ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার হোসেনকে মারতেই মোটরসাইকেল থেকে প্রাইভেট কারে গুলি করেন। ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেনকে ধরিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁরা এই কাজ করেন।
বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোজাম্মেল হক বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। শুনানির দিন ধার্য হয়নি। আসামিদের কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন মো. বেলাল (২৭) ও মো. মানিক (২৪)। গতকাল বুধবার রাতে নগর ও জেলার ফটিকছড়ি থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করে বাকলিয়া থানা-পুলিশ। দুজনই সাজ্জাদ হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়াদের শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার দিন তাঁদের মোটরসাইকেল থেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলিবর্ষণ করতে দেখা গেছে।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা তাঁদের বস ‘সন্ত্রাসী’ সাজ্জাদ হোসেনকে ধরিয়ে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে আরেক ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ারকে প্রাণে মারতে গুলি করেছিলেন প্রাইভেট কারে। এ জন্য তাঁরা টাকাও পান। তবে এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া লোকজন মোট কত টাকা পেয়েছিলেন, তার বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে।
জোড়া খুনের ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার রাতে। ওই দিন রুপালি রঙের একটি প্রাইভেট কার কর্ণফুলী শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে বাকলিয়া অ্যাকসেস রোডে আসতে থাকে। গাড়িটি শাহ আমানত সেতু এলাকা থেকে কিছু দূর যাওয়ার পর পেছন থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল সেটিকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে এলোপাতাড়ি গুলি করতে থাকে। প্রাইভেট কারের ভেতর থেকেও মোটরসাইকেল আরোহীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। গুলিতে অনেকটা ঝাঁঝরা হয়ে যায় গাড়িটি। নিহত ব্যক্তিরা হলেন বখতিয়ার হোসেন (৩০) ও মো. আবদুল্লাহ (৩২)। তাঁরা সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। গাড়িতে সরোয়ারও ছিলেন, তবে বেঁচে যান।
এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের করা মামলায় বলা হয়েছে, দুই সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ ও সরোয়ার হোসেনের বিরোধের জের ধরে আলোচিত জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। সাজ্জাদকে ধরিয়ে দেওয়ায় জন্য দায়ী করে ক্ষুব্ধ হয়ে সরোয়ার ও তাঁর অনুসারীদের ওপর এই হামলা চালানো হয়।
সন্ত্রাসী সাজ্জাদ, তাঁর স্ত্রী তামান্না শারমিনকে হুকুমের আসামিসহ সাতজনর নাম উল্লেখ করে গত মঙ্গলবার বাকলিয়া থানায় মামলা করেন নিহত বখতিয়ারের মা ফিরোজা বেগম। মামলার বাকি পাঁচ আসামি হলেন মো. হাছান, মোবারক হোসেন, মো. খোরশেদ, মো. রায়হান ও মো. বোরহান। তাঁরা সবাই সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
সাজ্জাদ ও সরোয়ার দুজনই বিদেশে পলাতক আট খুনের মামলার আসামি শিবির ক্যাডার হিসেবে পরিচিত সাজ্জাদ আলীর অনুসারী ছিলেন। দুজনের বিরুদ্ধে ১৫টি করে মামলা রয়েছে। তবে এক দশক ধরে সরোয়ার সাজ্জাদ আলীর গ্রুপ থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর সরোয়ার ও ছোট সাজ্জাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ৫ আগস্টের পর দুজনই জামিনে বেরিয়ে আসেন। জোড়া খুনসহ সরোয়ারের পাঁচজন অনুসারী গুলিতে মারা যান। ওসিকে মারার হুমকি দেওয়ার পর গত ২৯ জানুয়ারি সাজ্জাদকে ধরতে পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ। পরে গত ১৫ মার্চ ঢাকার একটি শপিং মল থেকে এক দম্পতি তাঁকে পুলিশে ধরিয়ে দেন। হুমকির পর তাঁরাও থানায় মামলা করেন সাজ্জাদ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: