বৃহস্পতিবার

৩ এপ্রিল, ২০২৫
২০ চৈত্র, ১৪৩১
৬ শাওয়াল, ১৪৪৬

ভল্ট থেকে স্বর্ণ লোপাট: চার্টশিট থেকে অজানা কারণে সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নাম বাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ অক্টোবর, ২০২৪ ১২:৫৮

শেয়ার

ভল্ট থেকে স্বর্ণ লোপাট: চার্টশিট থেকে অজানা কারণে সমবায় ব্যাংকের চেয়ারম্যানের নাম বাদ
কোলাজ: বাংলা এডিশন

বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংকের ভল্ট থেকে ১২ হাজার ভরি স্বর্ণ লোপাটের ঘটনায় তৎকালীন চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মহির দিকে তীর ছুড়ছেন ব্যাংকটির এক কর্মকর্তা। দুদকের তদন্তে প্রথম দিকে নাম এলেও রহস্যজনক কারণে চার্জশিট থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়। বর্তমান সহকারী মহাব্যবস্থাপকের মতে, বিভিন্ন সময়ে দুদককে তথ্য দেয়ার পাশাপাশি চার্জশিটে নাম আসাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ব্যাংকটি।

বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক  থেকে ১২ হাজার ভরি সোনা লোপাটের ঘটনা গণমাধ্যমে আসায় দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ২০১০ সালে নারায়ণগঞ্জ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট লিমিটেডের ১২ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ১২ হাজার ভরি স্বর্ণ জামানত হিসেবে নেয় ব্যাংকটি। এর সুদ জমে হয়েছে ১০ কোটি টাকা

তবে দীর্ঘ ১০ বছরেও ওই ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি নারায়ণগঞ্জ কো-অপারেটিভ ক্রেডিট লিমিটেড। এতে প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হয়ে যায়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমবায় ব্যাংকের একটি চক্র তাদের কাছে জামানত রাখা স্বর্ণ নয়ছয় করে।
 
এ নিয়ে ২০২০ সালেই তদন্তে নামে দুদক। সমবায় ব্যাংকের ওই সময়ের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদসহ নয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের প্রমাণ পায় সংস্থাটি। পরের বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংকটির পাঁচ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করলেও বাদ যান চেয়ারম্যান। পরে মামলার চার্জশিট থেকেও তার নাম বাদ দেয়া হয়। নাম আসে আট কর্মকর্তার। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন।
 
ব্যাংকটি পরিচালনায় একচ্ছত্র আধিপত্য থাকলেও কেন মামলা থেকে বাদ গেলেন চেয়ারম্যান, তার কারণ জানান মামলার আরেক আসামি ব্যাংকটির প্রিন্সিপাল অফিসার মো. ওমর ফারুক। তিনি বলেন, তৎকালীন চেয়ারম্যান ভুয়া গ্রাহক সাজিয়ে স্বর্ণ বিক্রি করে দিয়েছেন।
 
অভিযোগ নিয়ে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে মহিউদ্দিন মহির অন্তত দুটি নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। তবে যিনি বা যারা চেয়ার‍ম্যানের ওপর দায় চাপাচ্ছেন, তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা কি নেই ওই ঘটনায়? কেননা ভল্ট রক্ষণাবেক্ষণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ওই কর্মকর্তাসহ চার্জশিটে নাম আসা আরও ৭ জন।
 
সাসপেন্ডেড কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানান, স্বর্ণ ডেলিভারির সময় ব্যাংক কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। সে হিসেবে স্বাক্ষর করা কর্মকর্তাদের নামেও মামলা দেয়া হয়েছে।
 
আর সমবায় ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক ঝর্ণা প্রভা দেবি জানান, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছিলে, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুদকের তদন্তে নানা বিষয়ে তথ্য দিয়েছে সবমায় ব্যাংক। চার্জশিটে যেসব কর্মকর্তার নাম এসেছে, তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
 
এদিকে, বছরের পর বছর পার হলেও মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় এমন ঘটনা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
banner close
banner close