শনিবার

৫ এপ্রিল, ২০২৫
২২ চৈত্র, ১৪৩১
৭ শাওয়াল, ১৪৪৬

ডেসটিনির ৪৫ লাখ গ্রাহকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ, সমাধান ন্যায়বিচারে

প্রতিনিধি,সিরাজগঞ্জ

প্রকাশিত: ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১৪:১৩

আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১৪:১৩

শেয়ার

ডেসটিনির ৪৫ লাখ গ্রাহকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ, সমাধান ন্যায়বিচারে
কোলাজ: বাংলা এডিশন

আগামী ১৫ জানুয়ারি ডেসটিনি ট্রি প্ল্যান্টেশন লিমিটেডের (ডিটিপিএল) গাছ বিক্রির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলার রায়ের জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত। এর আগে গত ২৮ নভেম্বর রায় ঘোষণার কথা থাকলেও তা প্রস্তত হয়নি জানিয়ে নতুন দিন ধার্য করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম।

কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রফিকুল আমীনসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে কলাবাগান থানায় বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখন থেকেই কারান্তরীণ রয়েছেন রফিকুল আমীন। টানা এক যুগেরও বেশি সময় কারাগারে কাটিয়ে ফেলেছেন তিনি।

এত দীর্ঘ সময়েও মামলা, সাজা ও কারাবাসের পরেও এখনো ডেসটিনি বা ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে সুরাহা হয়নি। ডেসটিনি সংক্রান্ত দুই আলোচিত মামলার একটিরও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। এতে দিন দিন হতাশা আর ক্ষোভ বাড়ছে বিনিয়োগকারীদের। দুদক তাদের সুরক্ষার কথা বলে মামলা করলেও তাদের কোনো সাক্ষ্য নেয়নি। ৪৫ লাখ বিনিয়োগকারীর কেউ কখনো ডেসটিনির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও করেনি। মামলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল ইসলাম নামের একজন বিনিয়োগকারী।

তিনি বলেন, ‘এটা একটা পরিকল্পিতভাবে করা ষড়যন্ত্র ও প্রতারণামূলক মামলা। কিছু উড়ো চিঠির ভিত্তিতে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ৪৫ লাখ বিনিয়োগকারীদের রুটি রুজি কেড়ে নেয়া হয়েছে। অথচ আমাদের মধ্যে একজন বিনিয়োগকারীও কখনো কোনো অভিযোগ করেনি। এ ষড়যন্ত্রে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করাতে হবে।’

২০১২ সালের ১১ অক্টোবর থেকে কারাগারে আছেন রফিকুল আমীন। অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে করা একটি মামলায় দুই বছরের বেশি সময় আগে ১২ বছরের কারাদণ্ডের হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা জমেছে ডেসটিনির ত্রেতা ও পরিবেশকদের মধ্যে। কারণ এ দীর্ঘ সময়ে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার কথা বলে দুদক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের সর্বনাশ করেছে অভিযোগ করেন তারা। তারপরও দুদকের মনগড়া মামলায় রফিকুল আমীনকে এক যুগ ধরে কারাবন্দি করে রাখায় ভুগতে হচ্ছে তাদের।

তারা মনে করেন, নতুন করে ডেসটিনির ঘুরে দাড়াতে রফিকুল আমীনের কোনো বিকল্প নেই । ক্ষতি যতটা সম্ভব পুষিয়ে নিতেও রফিকুল আমীনকেই প্রয়োজন তাদের।

কুমিল্লা থেকে আগত আরিফ নামের একজন পরিবেশক বলেন, ‘রফিকুল আমিনের কাছেই আমাদের বিনিয়োগ নিরাপদ। তার ওপর আমাদের কোনোদিন কোনো অভিযোগ ছিল না। তার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।’ বিচার ব্যবস্থাপনায় আমূল সংস্কারের দাবি তুলছেন কেউ কেউ। তবে আদালতের প্রতি এখনো আস্থা রাখতে চান তারা। ১৫ জানুয়ারি তারা সুবিচার পাবেন বলে আশাবাদী অনেকে।

ডিটিপিএল ও ডিএমসিএসএ এর বিরুদ্ধে করা দুটি মামলায় মোট ৪১০০ কোটি টাকা নয় ছয়ের অভিযোগ করে দুদক। এ ছাড়া ডেসটিনির দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোতে রফিকুল আমীন অর্থ বিনিয়োগ করেছেন দাবি করে এটিকে মানি লন্ডারিং বলে আখ্যা দিয়েছে দুদক। ডিএমসিএস’র বিরুদ্ধে করা মামলার চার্জশিটে গত ১২ বছরে তিন শতাধিক সাক্ষী আদালতে হাজির করে দুদক। এদের মধ্যে ছিলেন, বিভিন্ন ব্যাংকের ম্যানেজার, অ্যাকাউন্ট্যান্ট, জয়েট স্টকের কমকর্তা ও বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তবে অবাক করার বিষয়, ৮ লাখ ৫৫ হাজার ৪২৯ জন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একজন ব্যক্তিতেও সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির করেনি দুদক। অথচ মামলা হয়েছে কিনা তাদের স্বার্থ রক্ষায়। ভ্যাট-ট্যাক্স প্রদানসহ ডেসটিনি মোট ব্যয় করেছিল ৫ হাজার ১০৫ কোটি টাকা।

ডেসটিনির প্রায় সব গ্রাহক মনে করেন, ন্যায়বিচার পেয়ে রফিকুল আমীন মুক্ত হলে খুলে যেতে পারে তাদের সম্ভাবনার নতুন দুয়ার। তাই কষ্টার্জিত বিনিয়োগের অর্থ ফিরে পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন ডেসটিনি ক্রেতা ও পরিবেশকরা।

 

banner close
banner close