
দেশেই চিনি উৎপাদনের মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা কমাতে চান বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান ড. লিপিকা ভদ্র।
শুক্রবার বিকেলে কেরু চিনিকলে ২০২৪-২৫ মৌসুমে আখ মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে মাড়াই উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মাড়াই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী শহিদুল করিম, চুয়াডাঙ্গা জেলা সিনিয়র দায়রা জজ আকবর আলী, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, প্রধান রসায়নবিদ আনিসুল হক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলার আহ্বায়ক আসলাম অর্ক প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেরু এন্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আজ থেকে কেরুর চিনিকলের আখ মাড়াইয়ের কাজ শুরু হলো। এ চিনিকলের এমডি এবং আরও যেসব কর্মকর্তারা আছেন, তারা যদি শ্রমিকবান্ধব হন, চিনিকলের উন্নতির জন্য কাজ করেন, তাহলে খুব দ্রুতই সব চিনিকলই লাভের মুখ দেখবে।’
ড. লিপিকা ভদ্র বলেন, ‘দেশের চিনি শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সিন্ডিকেট ভেঙে মধ্যস্বস্তভোগী কেউ যাতে লাভবান হতে না পারে, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিস্টিলারি বিভাগে সাধারণত দুটি ভাগ থাকে। একটি ফরেন লিকার আরেকটি কান্ট্রি লিকার। আমরা এরইমধ্যে ফরেন লিকারের পাশাপাশি কান্ট্রি লিকারের ছাড়পত্র পেয়েছি। অতি শিগগির কান্ট্রি লিকার বা দেশীয় মদও ফরেন লিকারের মতো বোতলজাত করা হবে। আমাদের ১৩টি নিজস্ব ওয়্যারহাউজে দেয়া হবে।’
আলোচনা সভায় কেরু এন্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘চিনিকলের লোকসান কমাতে এবং লাভজনক করতে ইতোমধ্যে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আখ রোপণ ও কৃষকদের সুযোগ-সুবিধার দিকে বেশি নজর দেয়া হচ্ছে। কৃষকদের আখচাষে উদ্বুদ্ধ করতে সভা-সমাবেশ অব্যাহত রাখা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আখের মূল্য বেশি। এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে চাষীদের প্রতি বেশি বেশি আখ লাগানোর আহ্বান জানাচ্ছি। উৎপাদন যত বাড়বে আখের মূল্যও তত বাড়বে। ফলে আর্থিক ভাবে লাভবান হবেন আখ চাষীরা।’
এ ছাড়া অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন চিনিকলের শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. ফিরোজ আহমেদ সবুজ, সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান।
১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের সবচেয়ে বড় চিনিকল দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড। চিনি উৎপাদন কারখানা, ডিস্টিলারি, জৈব সার কারখানা, ওষুধ কারাখানা ও কমার্শিয়াল ফার্মের সমন্বয়ে গঠিত বৃহৎ এ শিল্প কমপ্লেক্সের চিনি কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহতভাবে লোকসান গুনে আসছিল। তবে ডিস্টিলারির মুনাফা থেকে চিনিকলের লোকসান ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠেছে বৃহৎ এই শিল্প প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুন: