শনিবার

১ মার্চ, ২০২৫
১৬ ফাল্গুন, ১৪৩১
২ শা’বান, ১৪৪৬

সাম্প্রতিক ধর্ষণ, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

জাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১৪:৫৫

আপডেট: ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১৫:৫৫

শেয়ার

সাম্প্রতিক ধর্ষণ, ছিনতাই ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: বাংলা এডিশন

সারাদেশে চলমান ধর্ষণ, ছিনতাই এবং সন্ত্রাসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। রোববার দুপুর ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা।

মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পুনরায় শহিদ মিনার গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলে শিক্ষার্থীদের ‘সারাদেশে ধর্ষণ চলে, ইন্টেরিম কি করে’ স্লোগান দিতে শোনা যায়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘৪৮ ঘন্টায় ১৭টা ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।’

আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনা না হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ক্ষমতা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর হুশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।

বিক্ষোভ সমাবেশেটি সঞ্চালনা করেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪৮ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সজীব তালুকদার। এ সময় নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিগত সময়ে দেখিছিলাম, পতিত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারের সময় ধর্ষণ, ছিনতাই এবং সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। আজকে কিন্তু সেই সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে নেই। তবুও আমরা সারা বাংলাদেশে ধর্ষণ, ছিনতাই এবং সন্ত্রাসের ঘটনা প্রত্যেকদিন দেখতে পারছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে প্রতিদিন এরকম ধর্ষণের ঘটনা, ছিনতাইয়ের ঘটনা, সন্ত্রাসের ঘটনা দেখবো এটা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। আমরা যদি একটা সাম্য, মানবিক এবং ন্যায় বিচারের বাংলাদেশ গড়তে চাই, তাহলে সরকারকে প্রথমেই বাংলাদেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, সুশাসন গড়ে তুলতে হবে এবং আধুনিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাইলে সাধারণ মানুষের যে আকাঙ্ক্ষা আছে সে আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে ক্ষমতা থেকে টেনেহিঁচড়ে নামানোর হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কাওকে ক্ষমতায় বসাতে আন্দোলন করি নাই। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছি আমাদের যে ন্যায়বিচার, আমাদের যে নিরাপত্তা শেখ হাসিনা আমলে ঘাটতি ছিল সেটি যেনো পূরণ হয়।’

ধর্ষণে অভিযুক্তদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিতে দাবি জানিয়ে সমাপনী বক্তব্যে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নিবিড় ভূঁইয়া বলেন, ‘রাজধানী ঢাকাসহ পুরো বাংলাদেশের কোথাও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করা যাচ্ছে না। জান-মালের কোনো নিরাপত্তা নেই। মনে হচ্ছে এই বুঝি ছিনতাই করে নিলো সবকিছু। অবিলম্বে প্রতিটি নারী, ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং ধর্ষণে অভিযুক্তদের ৪৮ ঘণ্টার মাধ্যমে গ্রেফতার করে দ্রুত ট্রাইবুনালের মাধ্যমে বিচার করতে হবে।

‘একইসাথে দ্রুত যাতে বাংলাদেশের ল অ্যান্ড অর্ডার ফাংশন করে তার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার যে দায়িত্ব সেটি পালন করতে হবে, না হলে জাহাঙ্গীরনগর থেকে আমরা ঘোষণা দিতে চাই, আপনাকে টেনেহিঁচড়ে নামাতে আমরা একমিনিটও সময় নেবো না। বাংলাদেশের ন্যায়বিচার যাতে নিশ্চিত হয়, প্রতিটি মানুষ যাতে তার অধিকার নিশ্চিতের আন্দোলন করতে পারে রাস্তা-ঘাটে নির্বিঘ্নে চলতে পারে সেটি এই সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। না হলে এই সরকার যে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে গেছে সেই ম্যান্ডেট তারা হারাবে।’