
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে রাজনৈতিক, সামাজিক ও মিডিয়া সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সাথে ইফতার মাহফিল ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেলে পুরান ঢাকার লক্ষীবাজারে অবস্থিত চায়না হল রেস্টুরেন্টে জবি শাখা শিবিরের সেক্রেটারি রিয়াজুল ইসলামের সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিল ও মতবিনিময় সভাটি পরিচালনা করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, সাংবাদিক সমিতি, রিপোর্টার্স ইউনিটি, হিউম্যান রাইটস সোসাইটি, ডিবেটিং সোসাইটি, রোভার স্কাউট, ফটোগ্রাফিক সোসাইটি, আবৃত্তি সংসদ, ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনসহ আরও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রতিনিধিরা জবি শাখা ছাত্রশিবিরের ভালো উদ্যোগসমূহের প্রশংসা করেন এবং পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন।
এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, “জবি শিবির সবসময় ইতিবাচক ভূমিকা রেখে এসেছে। জুলাই অভ্যুত্থানে যখন প্রতিকূল পরিবেশ বিরাজমান ছিল, তখন শিবিরের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। আমরা যারা আন্দোলনের সময় মাঠে কাজ করেছি এবং বিপদের সম্মুখীন হয়েছি, তখন জবি ছাত্রশিবির আমাদের সাহায্য করেছে। এমনকি আমি নিজেও শিবিরের অফিসে থেকেছি।”
ডিবেটিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, “শিবিরের উচিত ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়গুলোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া। যাতে করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাতীয় মানের বুদ্ধিজীবী তৈরি হতে পারে। এজন্য ক্যাম্পাসে নিয়মিত জাতীয় মানের বিতর্ক আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হতে পারে।”
আবৃত্তি সংসদের সভাপতি আতিক মেজবাহ লগ্ন বলেন, “দেশের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অবদান অনন্য। সকলকে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে শিল্প-সাহিত্যকে এগিয়ে নিতে হবে।”
ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সভাপতি মিনহাজ বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”
সমাপনী বক্তব্যে আসাদুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করাই ছাত্রশিবিরের একমাত্র উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করতে ছাত্রশিবির বদ্ধপরিকর। এ ব্যাপারে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই মবকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না।”
ইফতারের পূর্বে শাখা সভাপতি আসাদুল ইসলাম দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। ইফতার শেষে জবি শিবিরের পক্ষ থেকে উপস্থিত সবাইকে পবিত্র কুরআন ও ঈদ উপহার দেওয়ার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আরও পড়ুন: