
কক্সবাজারে গিয়ে মন ভরে সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করবেন, আর সুস্বাদু খাবার খাবেন না, তা কি হয়? কিন্তু পাঁচতারকা হোটেল বা বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় খেতে গেলে খরচও হয় বেশ। তাই কম খরচে ভালো খাবারের খোঁজে থাকেন অনেকেই। কক্সবাজারে এমন বেশ কিছু রেস্তোরাঁ আছে, যেখানে সাধ্যের মধ্যে সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়।
শালিক: ডলফিন মোড়ে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁ সুলভ মূল্যে দেশি ও সামুদ্রিক খাবারের জন্য পরিচিত। সকালের নাস্তায় মাত্র ২০০ টাকায় পাওয়া যায় পরোটা, ডিম, গরুর কলিজা কিংবা চিকেন। দুপুরে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায় ভাত, ভর্তার প্ল্যাটার, দেশি মুরগি বা গরুর মাংসের কালো ভুনা। সামুদ্রিক খাবারের মধ্যে লইট্টা, কাঁচকি, কোরাল, সুরমার মতো মাছ পাওয়া যায় তুলনামূলক কম দামে।
আল-গণি: দেশি খাবারের জন্য পুলিশ স্টেশন রোডের আল-গণি হতে পারে দারুণ একটি জায়গা। মাত্র ৫০০ টাকায় এখানে পাওয়া যায় ভাত, ডাল, সবজি, মুরগি বা গরুর মাংস। খাসির কালো ভুনা, হাঁসের মাংস, মেজবানী গরু, এমনকি কবুতরের মাংসও আছে মেন্যুতে। মাছপ্রেমীদের জন্য ইলিশ, কোরাল, রুপচাঁদা, চিংড়ি, লইট্টাসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছও পাওয়া যায় এখানে।
পউষী: ডলফিন মোড়ে অবস্থিত এই রেস্তোরাঁ কম খরচে মানসম্মত খাবারের জন্য বেশ জনপ্রিয়। ১৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় নাস্তা, দুপুর ও রাতের খাবার। নাস্তার প্যাকেজে থাকে পরোটা, ডালভাজি, অমলেট ও চা। দুপুরে ৬০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় ভাত, ডাল, মাছ বা মাংসের সঙ্গে নানা রকম ভর্তা। চিকেন ও বিফ বারবিকিউও পাওয়া যায় এখানে।
ঝাউবন: সায়মান রোডের ঝাউবন রেস্তোরাঁর নাম শুনলেই অনেকে মনে করেন লইট্টা ফ্রাই ও কোরাল মাছের কারি। আর এখানকার সবজি মিক্সও বেশ জনপ্রিয়। মাত্র ৫০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায় ভাত, ডাল, মাছ বা মাংসের সঙ্গে ভর্তার বাহার—ছুরি শুঁটকি, লইট্টা শুঁটকি, কোরাল, চিংড়ি, কলার মোচা।
পালংকি: ইনানী বিচের কাছে অবস্থিত পালংকি রেস্তোরাঁয় মাত্র ৬০০ টাকায় পাওয়া যায় বাঙালি, ভারতীয়, থাই, পশ্চিমা ও ইতালীয় খাবার। এখানে খাবারের নামও বেশ মজার—আট পদের ভর্তার নাম ‘অষ্টভুজা’, ছোট মাছের চচ্চড়ির নাম ‘যদি কিছু মনে না করেন’। সন্ধ্যার মেন্যুতে থাকে ডাল মাখনি, পালক পনির, বিফ আচারি, চিকেন গ্রিল, লবস্টার ও কাবাব। ৫০০ টাকায় পাওয়া যায় গ্রীলড সি-ফুড প্ল্যাটার, যেখানে থাকে চিংড়ি, স্কুইড, কাকড়া, রুপচাঁদা ও কোরালের গ্রিল।
শৈবাল: সৈকতের কাছেই অবস্থিত শৈবাল রেস্তোরাঁ। ৪০০-৫০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায় চিংড়ি, কোরাল, লইট্টা, কাঁকড়া সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক খাবার। যারা একটু ভিন্ন স্বাদের কিছু খেতে চান, তারা এখানে তন্দুরি ফিশ বা গ্রিলড লবস্টারও অর্ডার করতে পারেন।
কম খরচে ভালো খাবার খেতে চাইলে কক্সবাজারের এসব রেস্তোরাঁ হতে পারে আদর্শ গন্তব্য। আপনি যদি সামুদ্রিক খাবারের স্বাদ নিতে চান কিংবা দেশি মেন্যু পছন্দ করেন। তবে বাজেটের মধ্যেই এখানে মনের মতো খাবার পাওয়া যাবে। এছাড়াও অনেক রেস্তোরা রয়েছে যেখানে পেতে পারেন মজার সব খাবার।