
চুয়াডাঙ্গা জেলার খাসপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে আল-আমিন। কর্মসূত্রে বসবাস করেন ঢাকার আশুলিয়ার আউকপাড়া আদর্শ গ্রামে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মন্তব্য করার কারণে ওই এলাকার আওয়ামীলীগের চিহ্নিত সন্ত্রাস শুটার সাদ্দাম ও অপু তাঁকে ডমিনেজ এর মেছ থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন করে।
সাদ্দাম,অপু ও তাদের সন্ত্রাস বাহিনীর ৪০/৫০ জন সদস্য আল-আমিনকে নির্মম শারীরিক নির্যাতন করে। এলাকাবাসী থানায় মোবাইল করে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আহত অবস্থায় আল-আমিনকে রেখে পালিয়ে যায় সাদ্দাম ও তার দলের অন্যান্য সন্ত্রাসীরা।
সাদ্দাম বাহিনী মধ্যযুগীয়ভাবে আল আমিনের উপর যে নির্যাতন চালিয়েছিল তার বর্ণনা দিলেন প্রত্যক্ষদর্শী একজন নারী।
আল-আমিনের মুখে সাদ্দাম ওরফে শুটার সাদ্দামের নাম শোনার পর তার খোঁজে আশুলিয়ার আউকপাড়া আদর্শ গ্রামে যায় বাংলা এডিশনের অনুসন্ধানী দল। শুটার সাদ্দাম আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে এই এলাকার নিয়ন্ত্রন এখনো নিজের দখলে রেখেছে বলে জানা যায়। বাংলা এডিশনের অনুসন্ধানী দল সাদ্দামের দেখা পাইনি তবে সাদ্দাম ও তার বাহিনীর নির্যাতনের শিকার কিছু মানুষের সাথে কথা বলে। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, চাদাবাজি,মাদক ব্যবসা, অবৈধ দখলসহ নানারকম অপরাধের সাথে জড়িত শুটার সাদ্দাম ও অপু বাহিনী নামে চিহ্নিত একদল আওয়ামী ক্যাডারেরা।
আদর্শ গ্রামের একজন বৃদ্ধ মহিলা বাংলা এডিশনের অনুসন্ধানী দলের সাথে কথা বলেন। সাদ্দাম ও অপুদের বিরুদ্ধে তার বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ। গত মঙ্গলবার রাতে সাদ্দাম দলবল নিয়ে তার বাসায় ভাঙচুর করে এবং লুট করে নিয়ে যায় ঘরের আসবাবপত্র।
গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর সাদ্দামের নামে একাধিক মামলা হয়েছে বলে জানায় স্থানীয়রা। মামলার কারণে সাদ্দাম দিনের বেলায় প্রকাশ্যে না আসলেও রাতের অন্ধকারে তাণ্ডব চালায় আদর্শ গ্রামে। তার তাণ্ডবের চিহ্ন পাওয়া গেলো এই বৃদ্ধার বসত বাড়িতে। ভাঙচুর চালিয়ে ঘরে থাকা সকল আসবাবপত্র লুট করে, তালা লাগিয়ে গেছে ঘরের দরজায়। সাদ্দামের লাগিয়ে যাওয়া সেই তালা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করার সাহসও নেই বৃদ্ধ মহিলার। চাঁদার টাকা আদায় করতে মাঝে মধ্যেই আদর্শ গ্রামে চলে সাদ্দামের এমন ভয়াবহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড।
শুটার সাদ্দাম ও অপুরা এই এলাকার মানুষদের জিম্মি করে রেখেছেন দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে। নিয়মিত চাঁদা না দিলে বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে দেয়ার একাধিক অভিযোগ আছে সাদ্দাম বাহিনীর বিরুদ্ধে।
আদর্শ গ্রামটি সরকারি খাস জমিতে গড়ে উঠেছে। সরকারিভাবে লিজ নিয়ে বসবাস করে এখানকার মানুষেরা। তবে এই এলাকার স্বঘোষিত সরকার শুটার সাদ্দাম। সরকারি জায়গার কোন ঘরটি উচ্ছেদ হবে সেটির নীতি-নির্ধারক শুটার সাদ্দাম ও তার ভয়ংকর বাহিনী। উচ্ছেদের কারণও নির্ধারিত হয় চাঁদার টাকা লেনদেনের উপর ভিত্তি করে।
আওয়ামী সরকারের আমলে সাদ্দামের অত্যাচারের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস করেনি। তবে বর্তমানে আইনীভাবে প্রতিকার চান ভুক্তভোগী অনেকে। ইতিমধ্যে যারা শুটার সাদ্দামের বিরুদ্ধে আইনীভাবে প্রশাসনের নিকট প্রতিকার চেয়েছে তাদের অনেককে সাদ্দাম মোবাইল করে হুমকি দিয়েছে বলে জানা যায়।
স্থানীয়দের দাবী চিহ্নিত এসকল সন্ত্রাসীদের পূনর্বাসন করতে কাজ করছে বিএনপি জামায়াতের নামধারী কিছু মানুষ। এসকল নামধারীসহ আওয়ামী সন্ত্রাস সাদ্দাম অপুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে এলাকাবাসী।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাংলা এডিশনকে জানান, সাদ্দামসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তাদের ধরতে অভিযান অব্যহত আছে।
২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামীলীগের চিহ্নিত ক্যাডারেরা এখনো প্রকাশ্যে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এই সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করা সময়ের দাবী বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
বিস্তারিত: https://www.youtube.com/watch?v=EVc1YWjIKvI&t=43s
আরও পড়ুন: