
কখনো সুবিধাবাদী নর্তকীদের পাশে দাঁড়িয়ে গান গাওয়া। আবার কখনো তাসবিহ হাতে, মাথায় কালো কাপড় বেঁধে অতি ধার্মিক সাজা। নিজের সুবিধার জন্য একেক সময় একেক রূপ ধারণ করতেন শেখ হাসিনা। আর তার দেয়া এসব সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন ধর্ম ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে, চলচ্চিত্র জগতের কথিত তারকারা।
পর্দার হাসিনা, নুসরাত ফারিয়া। মুজিবের বায়োপিকে হাসিনা চরিত্রে অভিনয় করার আগে থেকেই বিশাল তেল নিয়ে হাজির হয়েছিলেন মিডিয়ায়। বলা হয়ে থাকে ‘লজ্জা নারীর ভূষণ’। তবে শেখ হাসিনা কৃতকর্মে নারীর ঊর্ধ্বে নিজেকে নিয়ে গেছেন ডাইনির কাতারে। তাই নুসরাত, হাসিনাকে লজ্জাবতী বললেও, হাসিনার বিগত দিনের সব কর্মকাণ্ড দেখে, সেসবকে কোনোভাবেই লজ্জার সজ্ঞার মধ্যে ফেলতে পারবেন না আপনি।
নুসরাতের আইডল শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী বিএনপি কারো অবৈধ সন্তান না হলেও, নুসরাত ঠিকই অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতেন প্রায় রাতে। হাসিনার কাছে ঘেষার ফলে, নুসরাতের কাছে ঘেষার পথ তৈরি হয় চরিত্রহীন আওয়ামী লীগের নেতাদের। সেই সযোগে, মন খারাপ হলেই সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ডাক পড়তো ফারিয়ার। প্রায় সময়েই, উলঙ্গ পোশাকে সামনে আসা, ফারিয়া চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নও। তবে, গুঞ্জন রয়েছে খাট থেকে হারানোর ভয়ে সংসদে নুসরাতকে বসাতে চাননি পলক। তাই, তাকে মনোনয়ন না দেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের নিতী নির্ধারণীর কাছে তদবীর করেন তিনি।
শত বছরের ভাগ্য এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন নুসরাত ফারিয়া। গণহত্যা চালানোর পর গত পাঁচ আগস্ট পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। পালিয়ে যেয়ে নিজেকে প্রাথমিকভাবে অপরাধী প্রমাণ করে গেলেও, স্বৈরাচার হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করাকে এখনো গৌরব হিসেবেই দেখেন ‘পলকের রাতের পাখিখ্যাত’ নুসরাত ফারিয়া।
শরীর দেখানো আর দেখাতে নুসরাত আর পলকের মতো আরো বহু জুটি রয়েছে আওয়ামী লীগে। শেখ পরিবারের শেখ সেলিম এবং নায়িকা নিপুণ আক্তার তাদের মধ্যে অন্যতম। এই নেতার প্রভাব খাটিয়ে, চলচ্চিত্র জগতে নানা সুযোগ সুবিধা বাগিয়ে নিয়েছেন নিপুণ। ক্যারিয়ারে মনে রাখার মতো ভালো কোনো কাজ উপহার দিতে না পারলেও, সেলিমের ক্ষমতা খাটিয়ে পুরো চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে দখলে রেখেছিলেন এই অভিনেত্রী। তাদের সম্পর্কের কথাও ওপেন সিক্রেট ছিলো মিডিয়া পাড়ায়। সম্পর্কের তীব্রতা এতটাই ছিলো যে, সামান্য পার্লার উদ্বোধন করতেও শেখ সেলিমের মতো প্রভাবশালী নেতাকে দেখা যেতো নিপুণের সঙ্গে।
সম্প্রতি, নিপুণ আক্তারকে নিয়ে এভাবেই ক্ষোভ ঝাড়েন আরেক অভিনেত্রী ইলোরা গহর। এই অভিনেত্রীকেও ফোন দিয়ে উত্যক্ত করতেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
হাস্যোকর বক্তব্য দিয়ে, সারাদেশের মানুষের বিনোদনের খোরাক যোগানো ওবায়দুল কাদের নিজের বিনোদন জুগিয়েছেন, অভিনেত্রী জাহারা মিতুকে দিয়ে। এই অভিনেত্রীকে ছাড়া ঘুম হতো না কাদেরের, এমন সংবাদ প্রায় সবারই জানা।
ওবায়দুল কাদেরের ক্ষমতার লোভে পড়ে তাকে আইডল মানছেন মিতু। অন্যদিকে, মিতুকে সম্পত্তির লোভ দেখিয়ে ভোগ করলেও, মুখে লোক এখানো ঈমানদার সেজেছেন ওবায়দুল কাদের।
এদিকে, শেখ হাসিনার আরেকজন সাগরেদ সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ব্যারিস্টার সুমন নামেই যিনি অধিক পিরিচিত। গুঞ্জন রয়েছে, পিয়া জান্নাতুল নামের এক মডেলের সঙ্গে ছিলো তার অবাধ চলাফেরা। যেকোনো অনুষ্ঠান কিংবা আইনের কাজে সুমনের আশেপাশেই দেখা মিলতো এই মডেলের। এছাড়া, মেহরীন তাসরিণ জয়া নামের অন্য আরেক নারীর সঙ্গেও ছিলো সুমনের অবৈধ সখ্যতা।
বাংলা চলচ্চিত্রের আরেক কথিত তারকা তমা মির্জা। ঢালিউডের এক পরিচালকের সঙ্গে তাঁর প্রেমের গুঞ্জন রয়েছে। তবে, সেই প্রেমিক কিংবা সাবেক স্বামী নয়, তমা মির্জার বাসায় অবাধ চলাফেরা ছিলো আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার।
একাধিক বিয়ে করা এবং বিভিন্ন সময়ে নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড চালিয়ে নেটিজেনদের আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে থাকেন ঢালিউডের আরেক নায়িকা পরিমনী। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রভাবশালী আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা হারুণ অর রশীদের সঙ্গে ছিলো পরিমনীর অবৈধ সম্পর্ক। আলোচনা রয়েছে, ডিবি হারুণ নানা সময় ভোগ করতেন পরিমণিকে। এছাড়া, পুলিশ কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গেও অবৈধ সম্পর্ক ছিলো এই নায়িকার।
আওয়ামী লীগ ঘেঁষা আরো তিনজন প্রভাবশালী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জিয়া, রিয়ার অ্যাডমিরাল সোহাইল এবং আইজিপি বেনজির। এই তিন কর্মকর্তাও আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে ভোগ করতেন নায়িকাদের। জানা যায়, চলচ্চিত্রের পরিচিত এক নায়িকা এবং এক টিভি উপস্থাপিকাকে নিয়মিত শয্যাসঙ্গী বানাতেন এই তিন কর্মকর্তা। এছাড়া, বেনজিরের সঙ্গে চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মীম এবং কেয়ার সাথেও অবৈধ সম্পর্কের কানাঘোষা রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
আওয়ামী লীগের বিত্তবান এবং প্রভাবশালী নেতা সালমান এফ রহমানও বিতর্কে জড়িয়েছেন এক সংবাদ উপস্থাপিকার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক তৈরি করে। ইনডেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান শফিউল্লাহ আল মুনিরের সাবেক স্ত্রী জাকিয়া তাজিনের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা ছিলো সালমান এফ রহমানের। এই নারীর সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে পারিবারিকিভাবে নানা ঝামেলাতেও জড়িয়েছেন সালমান এফ রহমান। অভিযোগ রয়েছে, সালমান এফ রহমানের কারণেই শফিউল্লাহর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে জাকিয়ার।
আওয়ামী লীগ আমলের সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী হাসান মুরাদের সঙ্গে নায়িকা মাহিয়া মাহির সম্পর্কের কথা প্রায় সবার জানা। পরে, তাঁর সঙ্গে এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে, সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও অবশ্য পাননি মাহিয়া মাহি।
নারীবাজ হিসেবে কুখ্যাতি রয়েছে ঝিনাইদহ চার আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের। জানা যায়, ভারতের কলকাতায় নারীঘটিত কারণেই হত্যার শিকার হয়েছিলেন সাবেক এই এমপি।
আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এসব নেতাদের বাইরে, তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মীও বহু নারীকে নিয়ে মেতে উঠতেন রাতের অবৈধ আড্ডায়। সেরকমই একটা ভিডিও ভাইরাল হয়, পিরোজপুরের এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার।
দেশ পেরিয়ে, বিদেশ থেকেও পর্ন তারকাকে নিয়ে এসে মনোরঞ্জন করতেন আওয়ামী লীগের নেতারা। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্বেও ভারত থেকে সানি লিওন এবং নার্গিস ফখরীকে নিয়ে এসে মনোরঞ্জনের এই ব্যবস্থা করতেন স্বঘোঘিত সূর সম্রাট ও আওয়ামীপন্থী শিল্পী কৌশিক হাসান তাপস।
নিপুণ আক্তার, মাহিয়া মাহি, নুসরাত ফারিয়া, শাহনূর, শিমলা, তারিন জাহান, তানজিম সুইটি, সোহানা সাবা, উর্মিলা শ্রাবন্তী কর, মেহের আফরোজ শাওন, অরুণা বিশ্বাস, সুবর্না মোস্তফা, অপু বিশ্বাসসহ বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক পরিচিত মুখ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বিগত বছরগুলোতে। তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে নানামুখী সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে মনোনয়ন বাগিয়ে নেয়ার ধান্দায় নেমেছিলেন এসব তারকারা। আওয়ামী লীগ নেতাদের পাশাপাশি এসব নায়িকাদের দেশবিরোধী কোনো কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকলে, সুষ্ঠু আইনের মাধ্যমে তাদের বিচার দাবি সাধারণ মানুষের। একইসঙ্গে, শেখ হাসিনার তাবেদারি করা সুবিধাবাদী শিল্পিদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত বলে মনে করে সচেতন মহল।
বিস্তারিত : https://www.youtube.com/watch?v=77iaYxBS590
আরও পড়ুন: