শুক্রবার

৪ এপ্রিল, ২০২৫
২০ চৈত্র, ১৪৩১
৬ শাওয়াল, ১৪৪৬

উপদেষ্টা মাহফুজ ও আসিফের পদত্যাগ চায় গণঅধিকার পরিষদ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ মার্চ, ২০২৫ ১৭:১২

শেয়ার

উপদেষ্টা মাহফুজ ও আসিফের পদত্যাগ চায় গণঅধিকার পরিষদ
ছবি : সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমসহ সরকারের সব দফতর থেকে ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ।

মঙ্গলবার  দুপুর ১২টায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবু হানিফ, শাকিল উজ্জামান প্রমুখ। 

রাশেদ খাঁন বলেন, উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ইসলামি শক্তিকে সহ্য করতে পারছেন না। আলেম-ওলামা মাদ্রসা শিক্ষার্থীদের নিয়ে তিনি কটাক্ষ করেছেন। মাহফুজ আলম জাতীয় ঐক্য সংহতি পুরোপুরি ধ্বংস করেছেন। তিনি একজন বিতর্কিত ব্যক্তি, এরকম বিতর্কিত ব্যক্তি কোনোভাবেই সরকারের উপদেষ্টা পদে বহাল থাকতে পারেন না। আমরা তার পদত্যাগ দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, তথ্য উপদেষ্টা সরকারের মূখপাত্র হিসেবে কাজ করে। তবে তিনি (উপদেষ্টা মাহফুজ আলম) কখনও হেফাজত, কখনও জামায়াত, বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছেন। এসব বক্তব্যরে কারণে অনৈক্য সৃষ্টি হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন পরিষদের এই নেতা। প্রয়োজনে সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের দাবিও জানান রাশেদ খাঁন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলের মুখপাত্র ও সহ-সভাপতি ফারুক হাসান। লিখিত বক্তব্যে ফারুক বলেন, বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি, ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ ও সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ‘গভীর উদ্বিগ্ন’ বলে দিল্লিতে একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন মার্কিন ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্সের প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড। আমরা এই বক্তব্যোর তীব্র নিন্দা জানাই। বাংলাদেশে কোনও ইসলামিক সন্ত্রাসবাদ নেই, সংখ্যালঘুদের ওপরও অনাকাঙ্ক্ষিত কোনও ঘটনা ঘটেনি।

তিন বলেন, বরং ইতোপূর্বে ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের চেয়ে বেশি নিরাপত্তা দিতে পারছে।

ফারুক হাসান আরও বলেন, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন। আমরা শুরু থেকে এই সরকারকে একতরফাভাবে সমর্থন দিয়েছি। কিন্তু সরকার সবার সঙ্গে ইনসাফ না করে বরং গণঅভ্যুত্থানের একটি গোষ্ঠী বা পক্ষের সরকার হতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছে। যেহেতু অন্তরবর্তীকালীন সরকারের ৩ জন ছাত্র উপদেষ্টা ছিল, তাদের একজন পদত্যাগ করে একটি দলের প্রধান হয়েছে, সেক্ষেত্রে বাকিরাও সরকারে থাকার নৈতিকতা হারিয়েছে। আর দল গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় কি পদত্যাগকৃত উপদেষ্টা সম্পৃক্ত ছিলেন না? অবশ্যই ছিলেন। আর ৩ জন ছাত্র উপদেষ্টার একই নেক্সাস।

তিনি বলেন, সুতরাং আমরা সরকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে বাকি ২ জন ছাত্র উপদেষ্টারও পদত্যাগ দাবি করছি। এছাড়া ছাত্ররা যেহেতু দল গঠন করেছে, এক্ষেত্রে বৈষম্যবিরোধী বা সমন্বয়কের কোনও অস্তিত্ব বিদ্যমান নেই বলে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে সরকারের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে সরকারের সব সেক্টর ও দফতর থেকে ছাত্র প্রতিনিধিদের পদত্যাগ করা অতীব জরুরি। এছাড়া ঢাকা ওয়াসায় আউটসোর্সিং নিয়োগ নিয়ে গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশিত করা হয়েছে। এটা স্থায়ী নিয়োগের প্রাথমিক ধাপ।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যম প্রকাশিত হয়, ‘প্রায় দুই হাজার পাঁচশ আউটসোর্সিং কর্মী ঢাকা ওয়াসায় বিভিন্ন বিভাগ ও পদে কর্মরত আছেন। ওয়াসা তাদের চাকরির সুরক্ষায় বয়স শিথিল করে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগে। এক্ষেত্রে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ হলেও পরবর্তীতে স্থায়ী করার সুযোগ আছে। সুতরাং এই নিয়োগ অনৈতিক নিয়োগ। এই নিয়োগের তদন্তসহ সরকারের সব দফতরে নিয়োগের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের দাবি করছি।

গণঅধিকার পরিষদের এই নেতা আরও বলেন, আমরা মনে করি, রাষ্ট্র সংস্কার করতে হলে সবার আগে উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠন করতে হবে। এই লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপদেষ্টা পরিষদের পুনর্গঠন জরুরি। যেহেতু এই উপদেষ্টা পরিষদে বিতর্কিত ব্যক্তিরা রয়েছে। হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হওয়া জরুরি। গণঅধিকার পরিষদ গণহত্যার বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও রোডম্যাপ দাবি করছে। আমরা মনে করি, প্রধান উপদেষ্টার গতকালের বক্তব্য অনুযায়ী ডিসেম্বরের নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় রাষ্ট্র সংস্কার জরুরি। এজন্য দরকার জাতীয় ঐকমত্য। কিন্তু উপদেষ্টাদের বক্তব্যে জাতীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

banner close
banner close