শুক্রবার

৪ এপ্রিল, ২০২৫
২১ চৈত্র, ১৪৩১
৬ শাওয়াল, ১৪৪৬

নেপালের বিপক্ষে ৪-১-এ কাবাডি টেস্ট সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১ মার্চ, ২০২৫ ০৯:০৮

শেয়ার

নেপালের বিপক্ষে ৪-১-এ কাবাডি টেস্ট সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ
নেপালের বিপক্ষে ৪-১-এ কাবাডি টেস্ট সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। ছবি: সংগৃহীত

৫ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ আগেই নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। শেষ ম্যাচ ছিল স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার। সেই ম্যাচেও বড় ব্যবধানে হারিয়ে নেপালের বিপক্ষে ৪-১-এ কাবাডি টেস্ট সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। গতকাল শেষ ম্যাচে নেপালকে হারিয়েছে ৪৫-২৭ পয়েন্টে। পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলতে নেমেছিল সফরকারী নেপাল। তবে বাংলাদেশের কৌশলের কাছে কুলিয়ে উঠতে পারছিল না হিমালয়ের দেশটি। পয়েন্ট বাড়িয়ে নিতে থাকে মিজান, দিপায়নরা। খেলায় ফেরার কোনো সুযোগই পায়নি নেপাল। ১৮ পয়েন্টের ব্যবধানে নেপালকে হারিয়ে বিজয় উল্লাস করে বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। ম্যাচ ও সিরিজ সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মিজানুর রহমান। ম্যাচ শেষে মিজান বলেন, আমরা এশিয়ান গেমসের সবশেষ তিন আসর পদক ছাড়া ফিরছি। এর মূল কারণ হলো ম্যাচ প্র্যাকটিসের ঘাটতি। আমরা এক গেমসে থেকে আরেক গেমসে খেলতে যেতাম কোনো রকম আন্তর্জাতিক ম্যাচ না খেলে। আামরা জানি না অন্যরা কতোটুকু এগিয়েছে। আমাদের অবস্থা বা কি রকম? তবে এই ধরনের ম্যাচ নিয়মিত আয়োজন করা গেলে আমাদের ম্যাচ প্র্যাকটিসের ঘাটতি যেমন কেটে যাবে, পাশাপাশি প্রতিপক্ষ সম্পর্কেও পরিষ্কার ধারণা পাবো।’ কাবাডি বিশ্বে পারতপক্ষে দুর্বল নেপালের পুরুষ দল। সবশেষ ২০১৯ নেপাল সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসে প্রথমবারের মতো ব্রোঞ্জ পায় তারা। 

আর ২০২৩ হাংঝু এশিয়াডে বাংলাদেশকে হারিয়ে প্রথমবার পদকের (ব্রোঞ্জ) মুখ দেখে হিমালয়কন্যার মেয়েরা। এক সময় এশিয়াডে নিয়মিত (সাতটি রুপা ও ব্রোঞ্জ) পদক জেতা বাংলাদেশের সাফল্যের নিরিখে যা খুবই অপ্রতুল। সেই নেপালকে আমন্ত্রণ জানিয়ে সিরিজ জিতে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলতে চাইছেন কর্মকর্তারা। তবে এশিয়াডে প্রথমবার পদকের মুখ দেখতে মরিয়া নেপাল অধিনায়ক রোকা মাগার। টুর্নামেন্টের সেরা এই রেইডার বলেন, ‘সিরিজে আমরা একটি ম্যাচ জিতে নিয়েছি দেখেছেন। জানান দিলাম, আমরাও এশিয়াডে পদক জেতার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।’ আরও একধাপ এগিয়ে ভারতের প্রো-কাবাডিতে নিয়মিত খেলা নেপালের অধিনায়ক বলেন, ‘আমার বিশ্বাস আগামী এশিয়াডেই পদক জেতার সক্ষমতা দেখাতে পারবো।’ ১৯৭৪ সালে নিজেদের মাটিতে প্রথমবার কাবাডি টেস্ট সিরিজ খেলেছে বাংলাদেশ। সেবার প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী ভারত। ২০০৪ সালেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে তাদের মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। এরকম সেরা দলের সঙ্গে খেললেই বাংলাদেশের লাভ। নেপালের বিপক্ষে খেলে বাংলাদেশের প্রাপ্তি তেমন কিছুই নেই বলে জানান জাতীয় দলের সাবেক তারকা খেলোয়াড় আবু সালেহ মুসা। ২০০৬ কলম্বো এসএ গেমস ও কাতার এশিয়াডে ব্রোঞ্জ জেতা দলের এই সদস্য বলেন, ‘আমাদের সময়ে পাত্তাই পেতো না নেপাল। অথচ গত ১১ বছরে কতোটা এগিয়েছে তারা। এখন কাবাডি লীগের আয়োজন করে। মেয়েরা এসএ গেমসের পর জিতেছে এশিয়াডের পদক। ছেলেরাও এগিয়েছে। এই দলটির বিপক্ষে আমাদের কোনো লাভ নেই। বরং ওদের লাভ হয়েছে। অনেক কিছু শিখেছে তারা। আমাদের লাভ হবে ভারত, পাকিস্তান কিংবা ইরানের সঙ্গে খেললে। হারলেও অনেক কিছু শিখতে পারবো। যৌথভাবে সেরা কেচার হয়েছেন বাংলাদেশ দলের রোমান ও নাসির। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সচিব আমিনুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ ও যুগ্ম সম্পাদক পুলিশের ডিআইজি ইসরাইল হাওলাদার।

banner close
banner close