শুক্রবার

৪ এপ্রিল, ২০২৫
২১ চৈত্র, ১৪৩১
৬ শাওয়াল, ১৪৪৬

পাকিস্তানে ট্রেন হাইজ্যাক, কয়েকশ যাত্রী জিম্মি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ মার্চ, ২০২৫ ১৯:৩৪

শেয়ার

পাকিস্তানে ট্রেন হাইজ্যাক, কয়েকশ যাত্রী জিম্মি
ফাইল ছবি

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে জাফর এক্সপ্রেস নামে একটি চলন্ত ট্রেনে হামলা চালিয়ে ৫০০ জনের মতো যাত্রীকে জিম্মি করেছে বালোচ লিবারেশন আর্মির জঙ্গিরা। খবর এএফপির, ডনের।

মঙ্গলবার  সকালের দিকে জঙ্গিদের ছোড়া গুলিতে ট্রেনের চালক ও কয়েকজন যাত্রী আহত হন। পরে ট্রেনে উঠে সেটির নিয়ন্ত্রণ নেন সশস্ত্র হামলাকারীরা।

বেলুচিস্তানের বোলান জেলার কাছে পেশোয়ারগামী ওই যাত্রীবাহী ট্রেনে গুলি চালানোরও খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহতের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেশটির সরকার এখনও জানায় নাই। যদিও এখন পর্যন্ত ছয় সেনা সদস্যকে হত্যার দাবি জানিয়েছে জঙ্গিরা। আর ইন্ডিয়া টুডের এক খবরে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১১ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন রেলওয়ের নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ কাশিফের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ৯টি কোচ বিশিষ্ট এই ট্রেনটিতে প্রায় ৫০০ যাত্রী রয়েছেন।

তিনি জানান, আট নম্বর টানেলের ভেতরে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ট্রেনটি থামিয়ে দেয়। যাত্রী ও কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। 

সিবি সীমান্তবর্তী এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, ওই কর্মকর্তা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি পাননি। তিনি আরও জানান, পাহাড় ঘেরা একটি সুড়ঙ্গের ঠিক সামনে ট্রেনটি আটকে আছে।

তার দাবি, ট্রেনটি যেখানে থামানো হয়েছে সেটি পাহাড়ি এলাকা, যার ফলে জঙ্গিদের আস্তানা তৈরি করা এবং হামলার পরিকল্পনা করা সহজ হয়ে যায়। 

সরকারের বিবৃতি অনুসারে, সিবি হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং অ্যাম্বুলেন্স এবং নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে পাথুরে ভূখণ্ডের কারণে কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে অসুবিধা হচ্ছে। 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রেলওয়ে বিভাগ উদ্ধার কাজে আরও ট্রেন পাঠিয়েছে।

পাকিস্তানের স্বাস্থ্য বিভাগের মুখপাত্র ডা. ওয়াসিম বেগ জানান, কোয়েটার সিভিল হাসপাতালেও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সব পরামর্শদাতা, ডাক্তার, ফার্মাসিস্ট, স্টাফ নার্স এবং প্যারামেডিক্যাল কর্মীদের হাসপাতালে ডাকা হয়েছে। 

এদিকে ট্রেন অপহরণের ব্যাপারে একটি বিবৃতি দিয়েছে বালোচ লিবারেশন আর্মি। জঙ্গি গোষ্ঠীটির মুখপাত্র জিয়ান্দ বালোচ হুমকি দিয়েছেন, যদি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বা পুলিশ কোনো ধরনের অভিযান চালানোর চেষ্টা করে তাহলে ট্রেনের সব জিম্মিকে হত্যা করা হবে। তিনি দাবি করেছেন, অভিযানে গিয়ে সেনাবাহিনীর ছয় সেনা নিহত হয়েছেন।  

বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, যে কোনো ধরনের সামরিক অভিযানের জবাব সমান শক্তিতে দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত ছয় পাক সেনা নিহত হয়েছে এবং কয়েকশ যাত্রী আমাদের জিম্মায় রয়েছে। বালোচ লিবারেশন আর্মি এই অভিযানের পূর্ণ দায় নিচ্ছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, যারা নিরীহ যাত্রীদের ওপর গুলি চালায়, তারা কোনও ছাড় পাওয়ার যোগ্য নয়।

গত এক বছরে বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বেড়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে কোয়েটা রেলওয়ে স্টেশনে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কমপক্ষে ২৬ জন নিহত এবং ৬২ জন আহত হন।

জানুয়ারিতে ইসলামাবাদ ভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক পাক ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ (পিআইপিএস) কর্তৃক প্রকাশিত একটি নিরাপত্তা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা ২০১৪ বা তার আগের নিরাপত্তা পরিস্থিতির সাথে তুলনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

এতে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসীরা ২০১৪ সালের মতো পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট অঞ্চলগুলো আর নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, তবুও কেপি এবং বেলুচিস্তানের কিছু অংশে বিদ্যমান নিরাপত্তাহীনতা ‘উদ্বেগজনক’।

banner close
banner close