
ফিলিপিন্সের রাজনীতিতে দুই প্রভাবশালী পরিবারের দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য সংঘাতে রূপ নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট বংবং মার্কোস ও সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে্র মেয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতের্তের জোট ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। এই দ্বন্দ্বের মূলে রয়েছে ক্ষমতা দখলের প্রতিযোগিতা ও নীতিগত পার্থক্য।
মার্কোস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুতের্তে শিবিরে অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। সারা দুতের্তে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব চাইলে তাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেয়া হয়, যা তার জন্য অপমানজনক ছিল। পাশাপাশি, মার্কোস প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে, চীনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয় এবং রদ্রিগো দুতের্তের শাসনামলে পরিচালিত রক্তক্ষয়ী মাদকবিরোধী অভিযান বন্ধ করে দেয়। এসব কারণে দুতের্তে শিবিরের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে।
গত বছর সারা দুতের্তে এক ঘোষণায় বলেন, যদি তার ওপর কিছু ঘটে, তবে প্রেসিডেন্ট মার্কোসকে ছেড়ে দেওয়া হবে না। এমনকি প্রেসিডেন্ট হত্যার জন্য আততায়ী ভাড়া করার কথাও বলেন তিনি। এই বক্তব্যের পরই মার্কোসপন্থী কংগ্রেস তার অভিশংসনের উদ্যোগ নেয়। অভিশংসিত হলে তিনি ভবিষ্যতে কোনো উচ্চপদে আসীন হতে পারবেন না, ফলে তার প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্নও শেষ হয়ে যাবে।
সংঘাত আরও ঘনীভূত হয় যখন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করে। মাদকবিরোধী অভিযানে ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং নেদারল্যান্ডসে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সারা দুতের্তে অভিযোগ করেন, সরকার তার বাবাকে বিদেশি শক্তির হাতে তুলে দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করেছে।
মে মাসে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা ফিলিপিন্সের জনগণের সমর্থন কোন দিকে, তা নির্ধারণ করবে। দুতের্তে পরিবার এখনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জনপ্রিয়, এবং সাবেক প্রেসিডেন্টের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তারা বিক্ষোভ আয়োজনের সক্ষমতা রাখে।
যে বিষয়টি মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হওয়ার কথা ছিল, সেটি এখন ফিলিপিন্সের রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।
আরও পড়ুন: