
মিয়ানমারে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৩৫৪ জনে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৮৫০ জন। এখন পর্যন্ত ২২০ জন নিখোঁজ রয়েছে। ভূমিকম্পটি মিয়ানমারের সাগাইং শহরসহ আশপাশের এলাকা বিধ্বস্ত করেছে, যেখানে পুরো শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পের প্রভাব মিয়ানমারের কেন্দ্রস্থলে ব্যাপকভাবে পড়েছে।
গত শুক্রবার, ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প মিয়ানমারের সাগাইং শহরসহ আশপাশের গ্রামীণ এলাকা ধ্বংস করে দেয়। ভূমিকম্পের পর সাগাইং শহরের অবস্থা ভয়াবহ হয়ে ওঠে। শহরের ৮০% ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় প্রতিটি বাড়ি ও অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে। ভূমিকম্পে সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের মধ্যে চাপা পড়ে রয়েছে বহু মানুষের লাশ। শহরজুড়ে মৃত্যুর গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে এবং সবকিছু ধ্বংসের পর দৃশ্যমান কেবল ধ্বংসস্তূপ।
এছাড়া, ভূমিকম্পের পর সাগাইং শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে গেছে। রাস্তায় বড় বড় ফাটল এবং গর্ত তৈরি হয়েছে, ছোট ছোট ব্রিজ ও কালভার্ট ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থায় শহরটি এখন একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পের আট দিন পরও আফটারশক চলমান রয়েছে, যার কারণে স্থানীয়রা এখন ঘরে ঘুমাতে ভয় পাচ্ছেন। অনেকেই ফুটবল মাঠ, রাস্তা, কিংবা প্ল্যাটফর্মে রাত কাটাচ্ছেন, যেন কোনো বিপদের সময় দ্রুত বের হতে পারেন।
মিয়ানমারে এই ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কাজ চলছে, তবে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়া মানুষের মরদেহ বের করার চেষ্টা করছেন, তবে ভবনগুলোর ধ্বংসাবশেষের কারণে কাজটি বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পের কারণে মিয়ানমারে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যা খুব শীঘ্রই আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রয়োজন করবে। তথ্যসূত্র : রয়টার্স
আরও পড়ুন: